"জাতীয় সঙ্গীত: ইতিহাস, পরিবর্তন ও চেতনা"

 "জাতীয় সঙ্গীত: ইতিহাস, পরিবর্তন ও চেতনা"


"জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের পেছনে যে সব দেশের কারণগুলো ছিলো?"

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ১৯০৫ সালে লেখা হয়েছিল, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য নয়; এটি লেখা হয়েছিল বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। গানের কবিতায় সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালানো এবং মায়ের পায়ে মাথা ঠেকানোর মতো কিছু বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা হিন্দু ধর্মের অংশ এবং মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 


আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে এই গানটিতে 'বাংলাদেশ' শব্দটি নেই। রবীন্দ্রনাথ যখন এই কবিতা লেখেন, তখন 'বাংলা' বলতে তিনি বাংলাদেশকে বোঝাননি; বরং, তার 'বাংলা' বলতে পশ্চিমবঙ্গ বোঝানো হয়েছে। কারণ রবীন্দ্রনাথ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী ছিলেন এবং মাঝে মাঝে বাংলাদেশে বেড়াতে আসতেন। তাই 'বাংলা' বলতে তিনি পশ্চিমবঙ্গকেই বুঝিয়েছেন। কিন্তু আমরা ইতিহাসকে বিকৃত করে এই গানটিকে বাংলাদেশের গান হিসেবে প্রচার করতে চাইছি। এই যুক্তি কখনোই এই গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণযোগ্য করে না।


যে সঙ্গীত আমাদের স্বাধীনতার জন্য লেখা হয়নি, তা এমন একজনের দ্বারা রচিত, যিনি বাংলাদেশী নন এবং বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এই সঙ্গীত লেখেননি। আমরা আমাদের দেশের সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছি তার এই পশ্চিম বাংলাকে নিয়ে লেখা কবিতাকে। 


এই গানটিতে কোনো জাতীয় চেতনা নেই। এতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলনের কোনো চেতনা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অথচ এই গানটি শোনানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব ছিল। উল্লেখ্য, আমেরিকার জাতীয় সংগীত এবং ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত রণ সঙ্গীত, যা শুনলে দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার চেতনা জাগ্রত হয়। কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত।


যারা আবেগে মগ্ন হচ্ছেন, তাদের বলি, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই নিজেদের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করেছে। এর আগে কি কেউ এই সঙ্গীত পরিবর্তন করতে চেয়েছিল? হ্যাঁ, মেজর ডালিম, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খোন্দকার মোস্তাক সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট হন এবং তিনি এই সঙ্গীত পরিবর্তন করতে চান। তিনি কাজী নজরুল ইসলামের "নতুনের গান", যা আমরা "চল চল চল" নামেও জানি, সেটিকে গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। 


১৯৭৯ সালে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো একটি চিঠিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান যুক্তি দিয়েছিলেন যে "আমার সোনার বাংলা" জাতীয় পরিচয় এবং বাংলাদেশি।


Post a Comment

Previous Post Next Post