সেভেন সিস্টার্স’ বা সাত বোনের অঞ্চল ভারতের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সাতটি রাজ্যের সমন্বয়ে গঠিত। এই রাজ্যগুলো হলো:
1. **অরুণাচল প্রদেশ**
2. **অসম**
3. **মেঘালয়**
4. **মিজোরাম**
5. **নাগাল্যান্ড**
6. **ত্রিপুরা**
7. **সিকিম**
অঞ্চলটির বৈশিষ্ট্য:
- **ভূগোল**: এই অঞ্চলটি পাহাড়ি এবং বনাঞ্চল দ্বারা ঘেরা, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
- **সংস্কৃতি**: এখানে বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মিশ্রণ রয়েছে, যা স্থানীয় উৎসব, খাদ্য এবং ঐতিহ্যে প্রতিফলিত হয়।
- **অর্থনীতি**: কৃষি, পর্যটন এবং খনিজ সম্পদ এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। চা, রাবার এবং বিভিন্ন ফলমূলের চাষ এখানে প্রচলিত।
বাংলাদেশের ভূমিকা:
বাংলাদেশের সাথে এই অঞ্চলের সম্পর্ক গভীর। বাংলাদেশের সাথে সীমান্তবর্তী হওয়ায়, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রভাব রয়েছে।
- **বাণিজ্য**: বাংলাদেশ ও সেভেন সিস্টার্সের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে, যা উভয় দেশের অর্থনীতিতে সহায়ক।
- **সংস্কৃতি**: দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ঘটে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
- **পর্যটন**: বাংলাদেশের পর্যটকরা এই অঞ্চলে ভ্রমণ করে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
এইভাবে, সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।
বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক দু’দিন আগে ভারতীয় চ্যানেল এনডিটিভি-কে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আপনি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করেন, তাহলে সেই অস্থিরতার প্রভাব মিয়ানমার, সেভেন সিস্টার্স এবং পশ্চিমবঙ্গসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।”
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পূর্ববর্তী কয়েক দিনে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদপত্র ও চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি একই ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন এবং প্রতিবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বোঝাতে ‘সেভেন সিস্টার্স’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন।
লক্ষণীয় যে, ভারতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে বোঝাতে বর্তমানে ‘নর্থ-ইস্ট’ বা ‘নর্থ-ইস্টার্ন স্টেটস’ শব্দগুলো বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। একসময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ জনপ্রিয় থাকলেও এখন ভারতীয়রা সেটি প্রায় ভুলতে বসেছেন।
অথচ ভারতে ‘সেভেন সিস্টার্স’ শব্দটি বর্তমানে প্রায় অপ্রচলিত হলেও বাংলাদেশে ওই অঞ্চলটিকে বোঝাতে এখনও এই শব্দবন্ধটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
কিছু দিন আগে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যার পর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শত শত ছাত্রকে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছিল, “বন্যায় যদি মানুষ মরে, সেভেন সিস্টার্স থাকবে না রে!” এই দৃশ্যের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে ভারতেও ছড়িয়ে পড়ে।
‘সেভেন সিস্টার্স’ এর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে বাংলাদেশের একটি প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে, সম্ভবত সেই ইঙ্গিতই শিক্ষার্থীদের স্লোগানে ছিল। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও এই বিষয়টির ওপর বারবার জোর দিয়েছেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ স্থল-সীমান্তের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এই সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে, সাতটির মধ্যে চারটি রাজ্য – আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের সঙ্গে।
ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, সেভেন সিস্টার্স-ভুক্ত রাজ্যগুলোর বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী অতীতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে অবাধে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যখন বাংলাদেশ সরকার ওই নেতাদের ভারতের হাতে হস্তান্তর করেছে, তখন তাদের সক্রিয়তায় ভাঁটার টান দেখা গেছে।
সেভেন সিস্টার্সের সবচেয়ে বড় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা একাধিকবার বলেছেন, বাংলাদেশ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আলফা-র নেতাদের ভারতের কাছে হস্তান্তর করায় আসাম আজ এত ‘শান্তিপূর্ণ’, এবং রাজ্যের মানুষ ‘রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন’।
এ কারণে ভারতের এই অঞ্চলের ওপর প্রতিবেশী বাংলাদেশের একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক লিভারেজ’ বা কৌশলগত সুবিধা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সাধারণভাবে স্বীকৃত।
কিন্তু ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর উৎপত্তি ও নামকরণ কিভাবে হয়েছে? কেন এই ‘সাত বোনে’র পরিবারে বারবার ভারত-বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন ও বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে? সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের জন্য কেন এই অঞ্চলটি এত সংবেদনশীল?
১৯৭১ সালে ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া ‘নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি অঙ্গরাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিষদের সদর দফতর স্থাপিত হয়েছিল শিলংয়ে।
এই সাতটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলো:
1. আসাম
2. নাগাল্যান্ড
3. মণিপুর
4. মেঘালয়
5. অরুণাচল প্রদেশ
6. ত্রিপুরা
7. মিজোরাম
এই পরিষদের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন এবং সমন্বয়ের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হয়, যা ওই অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ইন্দিরা গান্ধী এই নামটি পছন্দ করেছিলেন, যা এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের উন্নয়ন ও সংস্কৃতিক ঐক্যের কথা মাথায় রেখে ১৯৭১ সালে ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া ‘নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে একটি পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিষদের সদর দফতর শিলংয়ে স্থাপিত হয়।
১৯৭২ সালের ২১শে জানুয়ারি, ত্রিপুরা, মণিপুর ও মেঘালয় যথাক্রমে ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। আসাম ও নাগাল্যান্ড পূর্বেই পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পেয়েছিল, এবং অরুণাচল প্রদেশ (তৎকালীন নেফা) ও মিজোরাম তখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদায় ছিল।
ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার সংবাদদাতা জ্যোতি প্রসাদ শইকিয়া, যিনি জে পি শইকিয়া নামেও পরিচিত, নতুন রাজ্যের আত্মপ্রকাশের দিনে একটি প্রতিবেদন পাঠান, যেখানে তিনি প্রথমবারের মতো গোটা অঞ্চলটিকে ‘ল্যান্ড অব সেভেন সিস্টার্স’ হিসাবে অভিহিত করেন।
এই অভিব্যক্তি পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীরও মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং সরকারি নথিপত্রে এই শব্দটির ব্যবহার বাড়তে থাকে। ভারতের পর্যটন বিভাগও ওই অঞ্চলের বিজ্ঞাপনের জন্য ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামটি ব্যবহৃত করতে শুরু করে, যা পরে পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় হাজারিকা জানাচ্ছেন যে, সাংবাদিক শইকিয়া পরে চাকরি ছেড়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী শরৎ চন্দ্র সিনহার উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন, যা এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
সার্বিকভাবে, এই ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামকরণের পেছনের ইতিহাস ও তার সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গীত, সাহিত্য এবং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।
১৯৭৬ সালে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এআইসিসি অধিবেশনে মি. সিনহা প্রকাশ্যে ‘সেভেন সিস্টার্স’ শব্দটি ব্যবহার করেন, যা জে পি শইকিয়ার অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে গুয়াহাটিতে শইকিয়ার মৃত্যুর পর ‘দ্য সেন্টিনেল’ পত্রিকা তাকে এই নামটির স্রষ্টা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০০১ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের অধীনে উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য ‘ডোনার’ নামে একটি আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়, যেখানে সিকিমকেও যুক্ত করা হয়। এরপর থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘সাত বোন এক ভাই’ হিসেবে বর্ণনা করা শুরু হয়।
বর্তমানে, বিজেপি সরকার এই আটটি রাজ্যের সমাহারকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ নামে অভিহিত করছে, ফলে পুরনো ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামটির ব্যবহার ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উপর প্রভাব ফেলছে।
এই অঞ্চলের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বোঝার জন্য ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা এখন নতুন নামকরণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হচ্ছে।
শিলিগুড়ি করিডর তথা ‘চিকেনস নেক’
শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক এলাকা। ২০১৯ সালে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যখন প্রতিবাদ তুঙ্গে ছিল, তখন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট শার্জিল ইমাম এক জনসভায় বলেন যে, এই করিডর অবরোধ করে আসামকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করলে সরকার তাদের দাবি মানতে বাধ্য হবে।
শার্জিল ইমামের এই বক্তব্যটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং এর ফলে তাকে দেশদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মুম্বাই আইআইটি এবং দিল্লির জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র, এবং তার কারাবাসের পর থেকে তিনি এখনও মুক্তি পাননি।
এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নাগরিকত্ব, জাতীয়তা এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছে। শিলিগুড়ি করিডরের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং ইমামের বক্তব্যের প্রভাব এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক এলাকা, যার সবচেয়ে সরু অংশটি মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া। এই করিডরের অবস্থান শিলিগুড়ি শহরের কাছে, এবং এর আকৃতি অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো হওয়ায় এটি ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত।
শার্জিল ইমামের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে, তিনি এই করিডরের জাতীয় নিরাপত্তার দুর্বলতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ আনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই করিডরের আশেপাশে চীন, নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশসহ অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
শিলিগুড়ি করিডরের এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং শার্জিলের বক্তব্য ভারতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছে।
শিলিগুড়ি করিডরের স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব এবং সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে বাকি ভারতের সংযোগের অভাব নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাবেক মেজর জেনারেল ভি এস রানাডে উল্লেখ করেছেন যে, এই করিডরের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সকে রাজনৈতিক বা জাতীয় আবেগের দিক থেকে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যে ইস্যুগুলো একটি দেশের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে, সেটা এখানে কোথায়?” এই প্রশ্নটি শিলিগুড়ি করিডরের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং সেভেন সিস্টার্সের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করে।
শিলিগুড়ি করিডরের স্ট্র্যাটেজিক ডেপথের অভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একটি বিপজ্জনক অবস্থায় রেখেছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংযোগের অভাব ভারতীয় সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
শিলিগুড়ি করিডরকে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা একটি 'সুযোগ' হিসেবে দেখছেন, যা ভারতের প্রতিবেশী নীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই করিডর আসিয়ান, বিমস্টেক এবং সার্কের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করতে পারে।
শ্রিংলার মতে, ভারতের নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসি এবং অ্যাক্ট ইস্ট নীতি এখানে একত্রিত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে, এই করিডর বা 'চিকেনস নেক' সেভেন সিস্টার্সকে বাকি ভারতের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অবস্থানে রেখেছে, যা নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংযোগের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে, শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব কেবল নিরাপত্তার দিকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে, যা ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সাহায্য করবে।
বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা
ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল সমস্যা। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং নৈসর্গিক শোভা সত্ত্বেও, এটি বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর, নাগাল্যান্ড ছিল প্রথম রাজ্য যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মাথাচাড়া দেয়। এ জেড ফিজো-র নেতৃত্বে নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল (এনএনসি) ১৯৫০-এর দিকে তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই শুরু করে। এনএনসি পরে ভেঙে গিয়ে নাগা সোসাইটি ফর সোশ্যাল রিসার্চ (এনএসসিএন) গঠন করে, যা মুইভা এবং খাপলাং-এর অনুগত গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে যায়। তবে নাগাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, সার্বভৌম 'নাগালিম' বা গ্রেটার নাগাল্যান্ডের দাবিতে, এখনও থামেনি।
এছাড়া, মণিপুরে কুকি গোষ্ঠী, আসামে 'আলফা', ডিমা-হাসাও এবং বোড়ো গোষ্ঠী, মিজোরামে এমএনএফ, এবং ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠীও ভারতীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। এই আন্দোলনগুলো দেশের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি বোঝার জন্য, সেভেন সিস্টার্সের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ইতিহাস এবং তাদের দাবিগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স, অর্থাৎ আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ এবং মনিপুর, একটি বৈচিত্র্যময় এবং জটিল অঞ্চল। এই অঞ্চলের মধ্যে সীমানা, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিরোধ এবং দ্বন্দ্ব বিদ্যমান।
শিলচর শহরের লেখক ও অধ্যাপক জয়দীপ বিশ্বাসের মতে, ভারতীয় মূল ধারার মিডিয়া সেভেন সিস্টার্সকে একটি হোমোজিনিয়াস ইউনিট হিসেবে উপস্থাপন করে, যা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, “ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে এখানে রাজ্যগুলোর মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি।”
ত্রিপুরা এবং নাগাল্যান্ডের মধ্যে যেমন সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পার্থক্য রয়েছে, তেমনি আসাম এবং মিজোরামের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য ফারাক রয়েছে। এই জাতিগত এবং ধর্মীয় ফল্টলাইনগুলোই সেভেন সিস্টার্সে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।
এছাড়া, আসাম-মেঘালয়, আসাম-ত্রিপুরা, অরুণাচল-আসাম এবং ত্রিপুরা-মিজোরামের মধ্যে সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটে থাকে।
সুতরাং, সেভেন সিস্টার্সের মধ্যে শান্তি এবং সদ্ভাবের চিত্র যে সব সময় সত্যি নয়, সেটি স্পষ্ট। এই অঞ্চলের বাস্তবতা বোঝার জন্য গভীর বিশ্লেষণ এবং গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ধর্ম, জাতি এবং সংস্কৃতির ভিত্তিতে বিভিন্ন সংঘাত এবং দ্বন্দ্বের ইতিহাস রয়েছে।
মিজোরাম, মেঘালয় এবং নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যে খ্রিষ্টানরা সংখ্যাগুরু, যেখানে অরুণাচল প্রদেশ বৌদ্ধ অধ্যুষিত। আসামে হিন্দু অসমিয়া এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। মণিপুরে হিন্দু মেইতেই এবং খ্রিষ্টান কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষ গত বছর শুরু হয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ত্রিপুরাতে, ব্রিটিশ আমলের পূর্ববঙ্গ থেকে বাঙালি হিন্দুদের আসার ফলে স্থানীয় উপজাতীয়দের সঙ্গে বিরোধের আগুন এখনও জ্বলছে। এই সব সংঘাতের কারণে সেভেন সিস্টার্স তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে রাষ্ট্রকে সেনা মোতায়েন করতে হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFSPA) দশকের পর দশক ধরে বলবৎ রাখতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতি বোঝার জন্য প্রয়োজন গভীর বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় জনগণের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা। সংঘাতের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ আর সেভেন সিস্টার্স
মিজোরাম এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি গভীর ইতিহাস রয়েছে, যা মিজো জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এমএনএফ) নেতা জোরামথাঙ্গা এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন যে, বাংলাদেশের সাহায্য ছাড়া তাদের আন্দোলন সফল হতে পারত না এবং মিজোরাম একটি পৃথক রাজ্য হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারত না।
ষাটের দশকের শেষের দিকে, এমএনএফ-এর বিদ্রোহীরা পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ভূখণ্ডে আশ্রয় পেয়েছিলেন। এই আশ্রয় প্রায় দুই দশক ধরে অব্যাহত ছিল, যা তাদের আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়ার ফলে মিজো বিদ্রোহীরা সংগঠিত হতে পেরেছিল এবং তাদের জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে সহায়তা পেয়েছিল।
এই ইতিহাসটি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্ক কিভাবে গড়ে উঠেছে এবং কিভাবে প্রতিবেশী দেশের প্রভাব তাদের আন্দোলন এবং রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
১৯৭১ সালের এপ্রিলে পার্বত্য চট্টগ্রামে এমএনএফের শীর্ষ নেতাদের কার্যক্রম এবং তাদের বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমএনএফের নেতা লালডেঙ্গা ঢাকার লালমাটিয়া এলাকায় পূর্ব পাকিস্তান সরকারের আতিথেয়তায় বসবাস করতেন, যেখানে তাদের প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো সাজেক ভ্যালি ও আশেপাশের এলাকায় ছিল।
তখনকার তরুণ জোরামথাঙ্গা লালডেঙার বিশ্বস্ত অনুচর ছিলেন এবং ১৯৮৭ সালে মিজো শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পৃথক মিজোরাম গঠনের আগে পর্যন্ত তিনি ও তার সতীর্থরা বাংলাদেশে বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন।
এছাড়া, আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আলফা-র নেতাদের অনেকেই, যেমন পরেশ বড়ুয়া, অনুপ চেতিয়া এবং অরবিন্দ রাজখোয়া, বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় পেয়েছিলেন এবং তাদের সশস্ত্র আন্দোলনের অনেকটা সময় সেখানে কাটিয়েছেন।
ত্রিপুরার সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এনএলএফটি এবং ত্রিপুরা ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার্সের সদস্যরাও বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় পেয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। এই ইতিহাসটি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন কিভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং কিভাবে প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড তাদের আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) বাংলাদেশ সরকার কখনওই দেশের মাটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। এই অস্বীকৃতি ঢাকা-দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম তিক্ততার সৃষ্টি করেছিল।
২০০৯ সালে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় মেয়াদে এই পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। শেখ হাসিনা সরকার বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং তাদের কার্যক্রম দমন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।
এই পরিবর্তনটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শেখ হাসিনার সরকার সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যা দেশের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জঙ্গীবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নীতির আওতায় সরকার একের পর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে গোপনে বা প্রকাশ্যে ভারতের হাতে তুলে দিতে শুরু করে। এর ফলে বাংলাদেশের মাটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো বন্ধ হতে থাকে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক হয়।
আলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া বাংলাদেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও, অনুপ চেতিয়া এবং অরবিন্দ রাজখোয়ার মতো অন্যান্য নেতারা ভারতে ফিরে এসে সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করেন। এই আলোচনা এবং শান্তি প্রক্রিয়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সেভেন সিস্টার্সের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভারতের কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষকরা স্বীকার করেন যে, শেখ হাসিনা সরকারের এই পদক্ষেপগুলোর ফলে গত এক দশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনেকটাই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
শেখ হাসিনা সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া। এই সিদ্ধান্ত সেভেন সিস্টার্সের জন্য একটি বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এটি স্থলবেষ্টিত এই অঞ্চলের জন্য সামুদ্রিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
এই দুটি বন্দরের ব্যবহারের সুযোগ ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ভৌগোলিক দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে, যা বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও সহজতর করেছে। মাতারবাড়ি বন্দর চালু হলে এই সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা সেভেন সিস্টার্সের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এছাড়া, মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে ভারত যে কালাদান মাল্টিমোডাল প্রোজেক্ট বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিল, বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যায়। ফলে, সেভেন সিস্টার্সের উন্নয়ন এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
মিয়ানমারের সিতওয়ে বন্দরের পরিবর্তে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়কপথে পণ্য পরিবহন করা উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য অনেক সহজ ছিল। এই কারণে, সেভেন সিস্টার্সের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পেছনে বাংলাদেশের ভূমিকা বিগত দেড় দশকে অপরিসীম ছিল।
বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, “ভারতকে আমি যা দিয়েছি, তা তারা সারা জীবন মনে রাখবে!” এই মন্তব্যটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, তবে তিনি ঠিক কী দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তা কখনও স্পষ্ট করেননি।
বিশ্লেষকরা ধারণা করেন, তিনি সেদিন সেভেন সিস্টার্সে শান্তি ও প্রগতি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ইঙ্গিত করেছিলেন। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং সহযোগিতা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর।
সার্বিকভাবে, শেখ হাসিনা সরকারের এই পদক্ষেপগুলো সেভেন সিস্টার্সের উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


.png)
